id card correction

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন সহ সব কিছু সংশোধনের নতুন নিয়ম 2022

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন: অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ভোটার আইডি কার্ডের নিজের নাম ভুল হয়ে থাকে।তার কারন যদি আমরা দেখতে যাই তাহলে দেখতে পারবো আগে মানুষ যেমনে ইচ্ছে এমনেই নাম দিয়ে দিতো। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী করতো না। আবার অনেক সময় দায়ীত্বে থাকা করমকরতাদের ভুলের জন্য হয়ে থাকে।

আর এর ভোগান্তি সইতে হয় সাধারন মানুষকে। nid card shongshodon ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন অথবা ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করতে একটু সময় লাগে এবং সাথে অনেক ডকুমেন্ট দিতে হয়।

যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ডে কোন তথ্য ভুল থাকে, তাহলে অতি দ্রুত সেই ভুলটা সংশোধন করতে হবে। আজকে আমরা জানাবো, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ও ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করবেন এবং কিভাবে আইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করবেন। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন সম্পর্কে জানবো। 

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন   

জেনে নেই ভোটার আইডি কার্ডের কারেকশনের জায়গাগুলো কি কি এবং কি কি পরিবর্তন করা যায় আর কি কি কারনে  আমাদের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তন করতে হয় এবং যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছেঃ

১।নিজ পিতা/স্বামী/মাতার নাম সংশোধন-

২। নিজের নাম পরিবর্তন

৩। বিবাহ/বিবাহবিচ্ছেদের কারণে সংশোধণ-

৪। পিতা/মাতার নাম পরিবর্তন-

৫। জন্মতারিখ সংশোধন-

৬। বিবিধ সংশোধন-

৭। রক্তের গ্রুপ সংশোধন-

৮। ঠিকানা সংশোধন-

৯। হালনাগাদ কর্মসূচীর সংশোধন/পুনঃ ইস্যু-

১০।অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের নাম বা সব সংশোধন করতে আবেদন   

১১।ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি কতো? 

উপরে উল্লেখিত কারনে এবং এসব পরিবর্তন হয়ে থাকে আর আজকের আলোচনা এবং আজকে আমরা শিখবো কিভাবে ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন,নিজ পিতা/স্বামী/মাতার নাম সংশোধন,বিবাহ/বিবাহবিচ্ছেদের কারণে সংশোধণ,পিতা/মাতার নাম পরিবর্তন,জন্মতারিখ সংশোধন ,বিবিধ সংশোধন ,রক্তের গ্রুপ সংশোধন , ঠিকানা সংশোধন ,হালনাগাদ কর্মসূচীর সংশোধন/পুনঃ ইস্যু , করতে হয় এবং কি কি লাগবে তা জানবো। এবং শেষে আবেদনের নিয়ম দেখানো হয়েছে। 

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করতে দুই জায়গায় যেতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করতে

  • উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে 
  • অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন 

প্রথমত আপনার উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।সেখানে আপনি সব কিছু জানাবেন আপনার সমস্যার কথা জানাবেন। তখন তারা আপনার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে আবেদন করে সংশোধন করে দিবে।

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন করতে ১৫০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। আর যদি কোনো তথ্য সংশোধন করতে হয়। তাহলে আরো বেশি টাকা দিতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত। কখনো বেশি টাকা দিয়ে ঠকবেন না। 

দ্বিতীয়ত অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ওয়েবসাইটে যাবেন এবং আপনার তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করবেন। নিছে কি কি কাগজ লাগবে, ওয়েবসাইট লিংক দেওয়া আছে।

এই দুইটার যে কোনো একটি উপায়ে আপনাকে করতে হবে আপনার সুবিধা অনুযায়ী যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। কিন্তু আজকে আমরা আপনাদের সামনে দুইটা পদ্ধতি শেয়ার করব।   

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে? 

ভোটার আইডি কার্ডে নিজের নাম, পিতা মাতার নাম ও ঠিকানা সংশোধনের জন্য যা যা লাগবে:-

শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট। বাবা-মার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাসপোর্ট এর ফটোকপি। এগুলো যদি না থাকে, তাহলে জন্ম নিবন্ধন এর অরিজিনাল কপি। উপরের এই সব কয়েকটি সনদ মূল কপি নিয়ে যেতে হবে। 

 নিজের নাম পরিবর্তন বা নাম সংশোধন করতে যা লাগবেঃ-

ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে

  • এস.এস.সি/সমমান সনদের সত্যায়িত ফটোকপি
  • বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি
  • ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট
  • জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি।
  • যদি পাসপোর্ট থাকে এবং পাসপোর্ট অনুযায়ী করতে চান পাসপোর্ট নিয়ে যাবেন।
  • পরবর্তীতে কাগজপত্রের মূলকপি সহ ব্যক্তিগত শুনানীর জন্য উপস্থিত হতে হবে।

নিজ পিতা/স্বামী/মাতার নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?

আবেদন পত্রের সাথে যেসব দলিলাদি (এক বা একাধিক) দাখিল করতে হবে

> এস.এসসি/সমমান সনদ

> নাগরিকত্ব সনদ

> জন্ম সনদ

> চাকুরীর প্রমাণপত্র

> পাসপোর্ট

> নিকাহনামা

> পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত দলিলাদি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে

সাধারণতঃ প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে উল্লিখিত তারিখে সংশোধিত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয় 

 

বিবাহ/বিবাহবিচ্ছেদের কারণে সংশোধণ করতে কি কি লাগে ?

> বিবাহের কারণে স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে- কাবিননামা ও স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দাখিল করতে হবে।

> বিবাহ-বিচ্ছেদের কারণে স্বামীর নাম বাদ দিতে চাইলে- তালাকনামার সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।

সাধারণতঃ প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লিখিত তারিখে সংশোধিত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।

 

পিতা/মাতার নাম পরিবর্তন করতে কি কি লাগে? 

পিতা/মাতার নাম আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদনের সাথে জমাদিতে হবে

> এসএসসি/এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার সনদপত্র/রেজিস্ট্রেশন কার্ড

> পিতা/মাতার পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি

> পিতামাতামৃত হলে অন্যান্য ভাইবোনের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি

> অন্য কোন গ্রহণযোগ্য কাগজের সত্যায়িত কপি

প্রকল্প কাৰ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকর্তৃক সাক্ষাতকার গ্রহণ করা প্রয়োজন হতে পারে।

 

জন্মতারিখ সংশোধন করতে যা যা লাগবে 

যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান

> তাদের জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে

> বয়সের পার্থক্য অস্বাভাবিক না হলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখিত তারিখে সংশোধিত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।

অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সনদের মূল কপি প্রদর্শনকিংবা ব্যক্তিগত শুনানীতে অংশ নেয়া প্রয়োজন হতে পারে।

যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনূর্ধ এসএসসি/সমমান তাদের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু তারিখের আগের তারিখের

> সার্ভিস বুক/এমপিও’র কপি

> ড্রাইভিং লাইসেন্স

> জন্ম সনদ

> নিকাহনামা

> পাসপোর্টর কপি প্রভৃতি দাখিল করতে হবে

প্রকল্পকালিয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়, প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।

 

বিবিধ সংশোধন

জাতীয় পরিচয়পত্রে কোন নামের পূর্বে পদবী, উপাধি, খেতাব ইত্যাদি সংযুক্ত করা যাবে না।

> পিতা/স্বামী/মাতাকে “মৃত” উল্লেখ করতে চাইলে মৃত্যু সনদ দাখিল করতে হবে

> জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে “মৃত” হিসেবে উল্লেখ করার কারণে

পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্রের কপি দাখিল করতে হবে।

 

রক্তের গ্রুপ সংশোধন

রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে হলে মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

 

ঠিকানা সংশোধন

ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়ে ফরম-১৩/ফরম-১৪ এ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

> প্রকল্প অফিসে ভোটার এলাকা পরবর্তন ছাড়া শুধু ঠিকানায় নম্বর বা বানান ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হয়।

> এজন্য পরিবারের কোন সদস্যের পরিচয়পত্রের কপি

> গ্যাস/বিদ্যুৎ/টলিফোন বিলেরকপি,করআদায়েরকপি

> চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র ইত্যাদি দাখিল করতে হবে।

 

হালনাগাদ কর্মসূচীর সংশোধন/পুনঃ ইস্যু 

২০০৯ সালে হালনাগাদ কর্মসূচীতে যাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তৰ্ভূক্ত করা হয়েছে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র কোন ভুল থাকলে বা হারিয়ে গেলে ডিসেম্বর, ২০১০ মাসের পর যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হল।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের নাম বা সব সংশোধন করতে আবেদন  

র্তমানে যে কোন কাজ আমরা অনলাইনে করে থাকি। অনলাইনে কাজ করার অনেক সুবিধা রয়েছে। তেমনি ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন অনলাইনে করা যায়। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে প্রথমে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/  যাওয়ার পর এমন একটি পেইজ দেখতে পারবেন। 

nid correction

এখানে আসার পর  যদি এখানে আগে আকাউন্ট করা থাকে তাহলে তাহলে নিচের পিকের মতো জায়গায় নাম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করবেন র না হয় নতুন রেজিসট্রেশন করবেন।

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন

এখন আপনার ভোটার আইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করার আগে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট করতে হবে। এখন আপনার সামনে আপনার ছবি নাম পিতা-মাতা ও ঠিকানা সবকিছু চলে আসবে। 

id card

edit

তারপর যা যা পরিবর্তন করবেন সেটায় ক্লিক করবেন মানে টিক দিবেন এবং নতুন নাম বা বয়সের সঠিকটা দিবেন।

correction rules

এভাবে আপনি যা যা করতে চান সব কিছুতে যাবেন আর পরিবর্তন করবেন অর্থাৎ আপনি যে বিষয়টা সংশোধন করতে যাচ্ছেন, সেই অপশনে এডিট এ গিয়ে তথ্যটি পুনরায় সংশোধন করুন। আরো ভালো বুঝতে ভিডিওটি নিচের দেখুন। 

উপজেলায় ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন করতে, অনেক ঝামেলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই ঘরে বসে নিজের মোবাইল ও কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে এই কাজটি করতে পারেন এবং এটা অফিসে জমা দিয়ে আসবেন তাতে আপনার কাজটা আরো দ্রত হতে পারে। আর সেখানে কর্মীদের কিছু টাকা দিয়ে আসবেন তাহলে নিশ্চিত আপনার কাজটা হ্যে যাবে। কিছু করার নাই টাকা চাঁড়া কিছু হয়না এখন।  

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগবে, এটা নির্ভর করবে আপনার সংশোধনের ধনের উপরে। আপনি যদি নিজের নাম সংশোধন করেন সেক্ষেত্রে ১৫০ টাকা। যদি পিতা মাতার নাম সংশোধন করেন ৪০০ টাকা। ঠিকানা সংশোধন করলে অল্প টাকায় হয়ে যায়। 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাই আপনি কখনো বেশি টাকা দিয়ে প্রতারিত হবে না। বর্তমানে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন নিয়ে অনেক চক্রান্ত চলছে। অনেকেই বলছে টাকা দাও ,আমি তোমার নাম ঠিকানা সংশোধন করে দেবো। আপনি কখনোই এরকম প্রতারণার শিকার হবেন না। 

 

ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর 

 

প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?

উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

প্রশ্নঃ ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?

উত্তরঃ জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

প্রশ্নঃ আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন আইডি কার্ড থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে?

উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?

উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?

উত্তরঃ অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না

প্রশ্নঃ আমার আইডি কার্ড এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সনদ, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, ওয়ারিশ সনদ, ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।

প্রশ্নঃ পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ দাখিল করতে হয়?

উত্তরঃ পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত্যু সনদ দাখিল করতে হবে।

প্রশ্নঃ ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?

 

উত্তরঃ শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফর্মে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।

প্রশ্নঃ আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছি না। লোকে বলে আইডি কার্ড –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে?

 

উত্তরঃ আইডি কার্ড এ প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

প্রশ্নঃ একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?

উত্তরঃ আপনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।

প্রশ্নঃ আইডি কার্ড এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।

প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?

উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।

প্রশ্নঃ বয়স/ জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি?

উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। তবে স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যাবে।

প্রশ্নঃ আমার জন্ম তারিখ যথাযথভাবে লেখা হয়নি, আমার কাছে প্রামাণিক কোন দলিল নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশ্নঃ একটি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ এক তথ্য শুধুমাত্র একবার সংশোধন করা যাবে। তবে যুক্তিযুক্ত না হলে কোন সংশোধন গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

ইতিকথা।

আশা করি, ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন ও ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন সম্পর্কে আর্টিকেলটি খুব ভালোভাবে পড়েছেন। আপনারা সব সময় চেষ্টা করবেন অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে। কারণ অনলাইনে সংশোধনের কাজটা অনেক সহজ।

এছাড়াও আপনার যদি বেশি তাড়াহুড়ো থাকে সে ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে যেতে পারেন। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন নিয়ে কোন টাকা কাউকে দেবেন না। আপনার থেকে কোনো ব্যক্তি যদি মোটা অংকের টাকা চায়। তাহলে প্রশাসনের সাহায্য নিতে পারেন। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.