নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কী

নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কী?বিশ্ব নবী বলা আদৌ কি যুক্তি সংগত?2023

নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কী?বিশ্ব নবী বলা আদৌ কি যুক্তি সংগত কি না

নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে আবার যাবে নাহ।যদি আপনি আপনার নবীর সম্মান বাড়াতে চান তাহলে বিশ্ব নবী বলা যাবে নাহ আর যদি সম্মান বাড়াতে না চান বরং সম্মান ক্ষুন্ন করতে চান তাহলে বিশ্ব নবী বলতে পারেন।

এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে বিশ্ব নবী বললে সম্মান ক্ষুন্ন হয়? সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং কেনো বলা উচিত নাহ এবং বিশ্ব নবী না বলে আমরা আমাদের নবীকে কি বলবো সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করবো।

নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কি না সেটা জানার আগে জানতে হবে বিশ্ব দ্বারা কি বোঝানো হয় এবং আল্লাহ তায়ালা নবীকে কী হিসেবে আমাদের নিকট প্রেরণ করেছেন। বিশ্ব নবী বলা আদৌ কি যুক্তি সংগত বা বললে নবীর প্রতি কোনো কটাক্ষ করা হয় কি না সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইংশা আল্লাহ। 

 

বিশ্ব শব্দের আসল অর্থ কি? 

বিশ্ব বলতে শুধু পৃথিবীকে বোঝানো হয়।আর পৃথিবী, অনান্য গ্রহ, নক্ষত্র,গ্যালাক্সি সব‌ই মিলে মহাবিশ্ব। মঙ্গল গ্রহ তো ভাই পৃথিবীর ভিতরে তাইতো মানুষ মঙ্গল গ্রহে যাওয়া আসা করে কিন্তু আসমানের উপরে যেতে পারে না আসমানের নিচে মঙ্গল গ্রহ আর জমিনের উপরে। আসমানের উপরে যা আছে তা কিন্তু পৃথিবীর নয়।

Dictionary তে বিশ্ব শব্দটা পুরো মহাবিশ্ব কে বুঝালেও মানুষ বিশ্ব শব্দ টা পৃথিবীকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করে ।যেমন: বিশ্ব ইজতেমা, বিশ্ব সেরা, বিশ্ব জয়, বিশ্ব ব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন।আজ বিজ্ঞান শুধু একটা আসমান বা একটা আকাশে সীমাবদ্ধ।

সাত আসমান বিজ্ঞান আজ আবিষ্কার করতে পারেন নি।তাহলে কি আমাদের নবী অন্যান্য আসমানের নবী নন। বিশ্ব বলতে যদি একটা আসমানকে বুঝানো হয় তাহলে বিশ্ব নবী বললেতো শুধু এক আসমানের নবী বুঝানো হবে।

আল্লাহ তায়ালা নবীর সম্পর্কে বলেন

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে  বলেন

وما أرسلناك إلا رحمة للعالمين

আল্লাহ বলেন আমি আপনাকে  পুরো আলমের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। এখানে আলামিন উল্লেখ করা। আলামিনের বহুবচন আলম আর আলমের অর্থ আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টি।এখানে বুঝা যাচ্ছে আল্লাহ তার প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার সমগ্র সৃষ্টির জন্য প্রেরণ করেছেন। 

তাহলে এ আয়াত দ্বারা এটাই বুঝা গেলো- আমাদের নবী হলেন দোজাহানের নবী। তিনি যেমন এই পৃথিবীর নবী ঠিক তেমনি পরকালের জন্য ও নবী।

এবার আসুন বিশ্ব নবী বলা যাবে কী না আমাদের নবীকে

নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কী

বিশ্ব-মানব সভ্যতাসহ পৃথিবীর সমস্ত জীবজগতকে বোঝানোর জন্য একটি দার্শনিক প্রসঙ্গ। আর এটাই বিশ্ব শব্দের মৌলিক অর্থ source Wikipedia । তাহলে বিশ্ব শব্দের একটা উদ্দেশ্য জানা গেলো যে বিশ্ব কেনো ব্যবহার করা হয়। আমরা বিশ্ব শব্দের আরো কিছু ব্যবহার এবং এঁর সঠিক মানেটা জানবো।

বিশ্ব শব্দটা বর্তমানে শুধু মনব সভ্যতার বসবাসরত জায়গাই ব্যবহার হচ্ছে,  তাদের কর্মস্থলে ব্যবহার হচ্ছে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায়-  বিশ্ব বাজারে নিত্য পন্যের দাম লাগামহীন।  পুরো বিশ্ব আজ করোনার কাছে মাথা নত করছে। বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর তালিকা। সচরাচর এভাবেই বিশ্ব শব্দটা ব্যবহার হয়।

আরো একটি গরুত্ব পূর্ণ কথা- আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমরা আমার নবীর ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে কথা বলো, নবীর ব্যাপারে কথা বলতে সবচেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করো। তোমরা নিজেদের ক্ষেত্রে যে শব্দ ব্যবহার করো তা আমার নবীর ক্ষেত্রে করো না। 

তাহলে এখান থেকেও বুঝা যায়, যেসব শব্দ আমরা আমাদের জন্য ব্যবহার করি, সচরাচর ব্যবহার করি সেসব শব্দ ব্যবহার না করে উত্তম শব্দ ব্যবহার করতে হবে এবং কথা বলার সময় সাবধানতার সাথে কথা বলতে হবে।

চাশতের নামাজ পড়ার নিয়ম,নিয়ত ও ফজিলত cashter-namaz

আপনি একটা মানুষকে জিগ্যেস করুন, যে বিশ্ব বলতে আপনি কি বুঝেন? অবশ্যই উত্তর আসবে এ পৃথিবী। বরচর প্রথম আসমান পর্যন্ত এঁর বেশি না। কিন্তু নবী কি শুধু এই প্রথম আসমানের ই নবী? না, অবশ্যই না। কারন আল্লাহ নিজেই বলেছেন সমগ্র সৃষ্টির জন্য প্রেরণ করেছেন তাহলে আপনি কোন যুক্তিতে বিশ্ব নবী বলবেন। 

যখন একটা শব্দ দ্বারা আল্লাহর বিশাল সৃষ্টির মধ্যে একটা ক্ষুদ্র  জায়গাকে(প্রথম আসমান) বুঝায় তখন আপনি সাহিত্যের দোহাই দিয়ে সেই বিশাল সৃষ্টি জগতের নবীকে আপনি ঐ ক্ষুদ্র জায়গাকে সম্বোধন করা শব্দ দিয়ে সম্মোধন করবেন আর বলবেন এটা দিয়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর প্রতি কটাক্ষ হচ্ছে নাহ।

অথচ আল্লাহ আপনাকে বলে দিয়েছেন যে নবীর ক্ষেত্রে  উত্তম শব্দ ব্যবহার করতে আর বিশ্ব নবী কিভাবে উত্তম শব্দ হতে পারে?

প্রশ্নঃ বিশ্ব নবী বলা সম্পর্কে নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কী

বাংলা সাহিত্যে কবি গোলাম মোস্তফার অনবদ্য সৃষ্টি ‘বিশ্বনবী’। বলাবাহুল্য, ইহা বিশ্বনবী হজরত মুহম্মদের স. একটি সুচিন্তিত প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠাব্যাপী জীবন চরিত্র।  আজ কিছু অতিআগ্রহী ‘বিশ্বনবী’ সম্বোধনে মনঃক্ষুণ্ণ হচ্ছেন। রাসুলকে বিশ্বনবী সম্বোধন নাকি হুজুরের শানকে ক্ষুন্ন করে বলা হয়। অনেকে তো এই পর্যন্ত বলেছেন রাসুল সা. কে বিশ্বনবী বলা একপ্রকার কটূক্তি বা কটাক্ষ!

বলাবাহুল্য ‘বিশ্বনবী’ সম্বোধনে রাসুল সা. শান আফজাই ক্ষুন্নের তো প্রশ্নই আসে না। বরং সুচিন্তিত ভাবে তাঁকে এই পুরো মহাজাগতিক বিশ্বের সার্বজনীন নবী এবং একমাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে দখল কম থাকায় কেউ কেউ এটি বুঝতে ভূল করেন। তাদের ধারনা, বিশ্ব শব্দের অর্থ পৃথিবী।

অথচ পৃথিবী হচ্ছে একটি গ্রহ। মূলত বিশ্ব শব্দের অর্থ, সমগ্র । আমরা অনেকে কূল-কায়েনাতের নবী বলি,  কূল-কায়েনাতের নবী মানেই বিশ্বনবী। ভাল বাংলা বুঝতে হলে বাংলা সাহিত্য চর্চার কোন বিকল্প নেই। ভাল বাংলা জানতে হলে, ভাল বাংলা বই পড়তে হবে। 

পড়ুন তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত এবং তাহাজ্জুত নামাজের নিয়ম tahajjud namaz

উত্তরঃ জবাব

বরং সুচিন্তিত ভাবে তাঁকে এই পুরো মহাজাগতিক বিশ্বের সার্বজনীন নবী এবং একমাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।আচ্ছা,  যখন আমার নবীর নাম আসে তখনতো সেটা এমনি বুঝা যায় যে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো মহাজাগতিক বিশ্বের সার্বজনীন নবী এবং একমাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।  কিন্তু আলাদা করে বিশ্ব নবী বলে উপস্থাপনটা কি দরকার?? কি দরকার? 

বুঝলাম আপনার বিশ্ব দ্বারা সমগ্র বুঝায় অর্থাৎ যত গ্রহ আছে, চাঁদ সূর্য শনি মঙ্গল ইত্যাদি ইত্যাদি বুঝায়।  কিন্তু আমার নবীতো শুধু এই প্রথম আসমানের জন্য নবী নাহ আমার নবী তো আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টির নবী।

আপনার আল্লাহতো আপনাকে বলেছেই উত্তম শব্দ ব্যবহার করতে। আপনি উত্তম শব্দ থাকতে কেনো এ শব্দ ব্যবহার করবেন।

যখন একটা শব্দ দ্বারা আল্লাহর বিশাল সৃষ্টির মধ্যে একটা ক্ষুদ্র  জায়গাকে বুঝায় তখন আপনি সাহিত্যের দোহাই দিয়ে সেই বিশাল সৃষ্টি জগতের নবীকে আপনি ঐ ক্ষুদ্র জায়গাকে সম্বোধন করা শব্দ দিয়ে সম্মোধন করবেন আর বলবেন এটা দিয়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর প্রতি কটাক্ষ হচ্ছে নাহ। 

আরো একটি উত্তরঃ জবাব

আমরা অনেকে কূল-কায়েনাতের নবী বলি,  কূল-কায়েনাতের নবী মানেই বিশ্বনবী কূল কায়েনাত মানেই বিশ্ব নবী। কিভাবে?  বিশ্ব বলতে শুধু প্রথম আসমানকেই বুঝায় আপনার আলোচনা অনুযায়ী। কিন্তু কায়েনাত অর্থ মূলত সমস্ত সত্তা বা সমস্ত সৃষ্টি। কূল কায়েনাত দিয়ে আরব সাহিত্যিকরা আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি বুঝিয়েছেন

কিন্তু আপনার বিশ্ব দ্বারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার সমগ্র সৃষ্টিকে কিভাবে নির্দেশ করে বা কিভাবে বুঝায় আপনার কোন বাংলা সাহিত্যে বলা আছে আমাকে জানান। সাধারণ একজন পৃথিবীর দর্শনিক যদি এই প্রথম আসমানের ভিতর যা আছে, তা নির্দেশ করতে বা ইঙ্গিত করতে মহা বিশ্ব ব্যবহার করে

তাহলে আমরা নবীকে কি বলে সম্বোধন করবো?

আমরা নবীকে মহা নবী বলে সম্বোধন করতে পারি এবং দোজাহানের নবী বলে সম্বোধন করতে পারি। মুহাম্মদ সা. সর্বশেষ নবি এবং তারপর আর কোনও নবি আসবেন না। তাই কেয়ামত পর্যন্ত সারা বিশ্বের জন্য তিনিই নবি শুধু বিশ্বের না দোজাহানের নবী। তার আদর্শই আদর্শ। তার কুরআনই সংবিধান।

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আমাকে সঠিক বুঝ দান করুক এবং আমাদের নবী শ্রেষ্ট নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলালাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথ অনুসরন করে আল্লাহর  নৈকট্য লাভ করতে পারি এবং নবীকে পরিপূর্ণ সম্মান করতে পারি এবং নবীকে বিশ্ব নবী বলা থেকে বিরত থাকি। বলতে পারবেন, গুনাহ হবে নাহ কিন্তু না বলাই ভালো। অন্তত কাজী নজরুলের ভালোবাসার মতো আমরা নবীকে ভালোবাসি না, তারচেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে। সব কিছুর থেকে নবীকে বেশি ভালবাসতে হবে। দোজাহানের নবী কামলিওয়ালা নবীর শাফায়াত নসীব হক আমাদের সবার উপর-আমিন।

3 thoughts on “নবীকে বিশ্ব নবী বলা যাবে কী?বিশ্ব নবী বলা আদৌ কি যুক্তি সংগত?2023”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *