ইশরাকের নামাজ

ইশরাকের নামাজের সময়।নিয়ত ও ফজিলত এবং পড়ার নিয়ম ishraker namaz 2022

  • প্রাথমিক আলচোনা ইশরাকের নামাজ সম্পর্কে

আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করে দিয়েছেন সেই সাথে বিতিরের নামাজ ওয়াজিব করে দিয়েছেন। একজন মুসলমান হিসেবে আপনাকে এই নামাজ গুলো পরতে হবে। আর না হয় আপনার গুনাহ হবে এবং মরার পর আপনার জন্য রয়েছে যন্ত্রনা মুলক শাস্তি। আল্লাহ আমাদের সব নামাজ ঠিক মতো পরার তইফিক দিন-আমিন।

এখন আসুন কেউ যদি আল্লাহ প্রিয় বান্দা হতে চায়, আল্লাহর বেশি কাছে  যেতে চায় তাহলে তাকে অনেক নফল ইবাদত করতে হবে। নফল ইবাদতের মাধ্যমেই সে আল্লাহর প্রিয় মুমিন বান্দা হতে পারবে। নফল ইবাদত অনেক রয়েছে। যেমন

  • কুরআন তিলাওয়াত করা
  • জিকির করা
  • নফল নামাজ পরা
  • মানুষ্কে দান সদকা করা
  • ভালো কাজ করা সমাজের জন্য, ইত্যাদি।

নফল নামাজের মধ্যে সর্বোত্তম তাহাজ্জুদ নামাজ।তাহাজ্জুদ নামাজের অনেক অনেক ফজিলত আছে।আপনি যদি নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন তাহলে আপনি অনেক তাড়াতাড়ি আল্লাহর প্রিয় বন্ধু হতে পারবেন।

আমাদের প্রিয় নূর নবী হজরত মোহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন আমাদের নবী ইশরাক নামাজও বাদ দিতেন নাহ এবং চাশতের নামাজওচাশতের নামাজও পড়তেন। পড়ার পর জায়নামাজ থেকে উঠতেন। সুতরাং তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন সবসময় এবং আমিও যাতে পড়তে পারি রীতিমতো সেই দোয়া করবেন।

এগুলো সব নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।সুতরাং, আপনি যেইটাই করেন না কেনো আল্লাহ আপনাকে এর প্রতিদান দিবেন। আজকে আমরা জানবো নফল নামাজের মধ্যে একটি নামাজ ইশরাকের নামাজ সম্পর্কে। আমরা যা যা জানবো ইশরাকের নামাজ সম্পর্কে, তা হলোঃ

ইশরাকের নামাজের সময় নিয়ত ও ফজিলত এবং পড়ার নিয়ম

ইশরাকের নামাজের সময়,নিয়ত ও ফজিলত PIC

ইশরাক নামাজের সময়

ইশরাক নামাজের সময় ইশরাকের নামাজ সূর্যোদয়ের বিশ মিনিট পরে পড়িতে হয়।  ইশরাকের নামাজের সময় সূর্যোদয় হইতে দুই ঘন্টা পর্যন্ত থাকে ইশরাকের নামাজ দুই রাকাত করিয়া চার রাকাত পড়িতে হয়।

ইশরাকের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়

নফল নামাজে যে আপনাকে নির্দিষ্ট কোনো সূরা দিয়ে পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই।তবে কিছু কিছু সূরা দিয়ে পড়ার অনেক ফজিলত আছে।

প্রথম রাকাতে আয়াতুল কুরছি তিনবার ও সূরা ইখলাছ সাতবার পড়িবে এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘শামছ’ (ওয়াশশামছি ওয়া দোহাহা) একবার পড়িবে। পরের দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সূরা তারিক‘ (ওয়াছ্ছামায়ে ওয়াত্ ত্বারিক্বি) এক বার এবং দ্বিতীয় রাকাতে আয়াতুল কুরছী একবার ও সূরা ইখলাছ তিনবার পড়িবে।

 

ইশরাকের নামাজের নিয়ত

সব নামাজের নিয়ত থাকে। কেউ বাংলায় নিয়ত করে আবার কেউ আরবীতে নিয়ত করে।কেউ বলবে আরবীতে নিয়ত কোথায় আছে? আরে ভাই থাকতে হবে কেনো? আপনি যেটা বাংলায় করতেন সেটা আরবীতে করেন সমস্যা কি?
আপনি সূরা পড়বেন আরবীতে,  অর্থাৎ সব কিছু আরবীতে তো নিয়ত করতে সমস্যা কোথায় আরবীতে?  অনেকেতো বলে নিয়ত করারি দরকার নাই, আপনার অন্তরের নিয়ত এতো আসল। শুনেন, আপনি অন্তরে নিয়ত করেছেন ইশরাক নামাজ পড়বেন, সে জন্য নামাজের মুসল্লায় বসে আছেন কখন সম হবে।
এর মাঝে আপনি অনেক আমল করলেন, হয়তো কারো সাথে কথাও বললেন যদি মসজিদে নামাজ পড়েন (মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা হারাম) সবশেষ যখন নামাজের সময় হলো আপন নিয়ত না করে নামাজে দাড়িয়ে গেলেন।আচ্ছা আপনি কি মনে করেন এতোক্ষণে আপনার নিয়তটা মজবুত ছিলো? অবশ্যই নাহ, কথাবার্তা, অন্য আমল ইত্যাদি করেছেন।
আর আম খাস বলতে একটা কথা আছে। আপনি যদি নামাজের জন্য খাস ভাবে নিয়ত করেন তাতে সমস্যা কি ভাই? যদি আমার নিয়ত করলে সমস্যা নাই তাহলে আমি কিভাবে মানুষকে এসব থেকে বাঁধা দিবো? এ সমস্ত আলেম থেকে দূরে থাকুন। তারা আপনার থেকে আমল, ঈমান উঠিয়ে নেওয়ার জন্য নামছে। আল্লাহ আমাদের প্রতি রহম করুক এবং তাদের শয়তানি থেকে আমাদের হেফাজত করুক।
আপনি বাংলা এবং আরবীতে করতে পারবেন তবে আরবিতে নিয়ত করাই উত্তম। এখানে আরবি নিয়ত দেয়া হলো। ইশরাকের নামাজের নিয়তটি দেওয়া গেলঃ

 

نويت أن أصلى لله تعالى ركعتى صلوة الأشراق سنة رسول الله تعالى متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله اكبره

 

ইশরাকর নামাজের নিয়তটির বাঃ উঃ- নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহে তায়ালা রাকয়াতাই ছালাতিল ইরাকে সুন্নাতু রাঙুলিল্লাহে তায়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ্ শারীফাতে আল্লাহু আকবর।

বাংলায় এভাবে বলবেনঃ আমি দুই রাকাআত ইশরাকের নামাজ আদায় করার জন্য কেবলা মুখী হয়ে নিয়ত করছি- আল্লাহু আকবার

ইশরাকের নামাজ পড়ার ফজিলত

ইশরাকের নামাজ পড়ার ফজিলত ফজরের নামাজ পড়িয়া আল্লাহ্ তায়ালার ধ্যানে বসিয়া থাকিয়া সূর্যোদয়ের পর চারি রাকাত ইস্রাকের নামাজ পড়িবে, ইহাতে একহজ্ব ও এক ওমরার ছওয়াব পাইবে এবং আল্লাহ্ তায়ালা তাহার ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত যত আশা আছে, উহা সবই পূর্ণ করিয়া দিবেন

এবং তাহার জন্য বেহেশতের মধ্যে সত্তরটি বালাখানা তৈয়ার করিতে আদেশ দিবেন। ইশরাকের নামাজ পড়িয়া ঘুমাইবে না, তাহাতে দরিদ্র হইবে। চাশতের নামাজের নিয়ম জানুন

ইশরাক নামাজ পড়ার নিয়ম

আমরা অন্য নামাজ যেভাবে পড়ি সেভাবেই ইশরাকের নামাজ পরবো। নামাজ পরার নিয়ম আকই থাকে শুধু বিতিরের নামাজে একটু ভিন্নতা দেখা যায়। সাধারন নিয়ম গুলো হলোঃ

  • প্রথমে নামাজের দোয়া পরবো
  • তারপর নিয়ত করবো
  • তারপর ছানা পরবো
  • তারপর সুরা ফাতিহা
  • সুরা মিলাবো
  • এভাবে নামাজের নিয়মের মতো পড়ে যাবো

আল্লাহ তায়ালা আমাদের নামাজ কবুল করুক এবং আল্লাহ নৈকট্য লাভ করতে পারি আমরা সে তৈফিক দিক আমিন। আল্লাহ তায়ালা আপনার এবং আমাদের উপর রহ্মত দিক সেই দোয়া করি এবং আপনি ও নামাজের পর আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

শুধু নামাজ পড়লে হবে না সে সাথে পর্দা করতে হবে এবং হালাল হারাম বেঁচে চলতে হবে। মানুশের উপকার করতে হবে। তাহলেই আল্লাহর কাছে আমরা প্রিয় বান্দা হতে পারবো। আজকে এ পর্যন্ত। লেখা গুলো পড়ে উপকার হলে শেয়ার, কমেন্ট করতে ভুলবেন নাহ। আপনার শেয়ারে আরেকজনের উপকার হতে পারে।

প্রশ্ন এবং উত্তর

প্রশ্নঃ ইশরাক নামাজ কখন পড়তে হয়?

উত্তরঃ ফজরের নামাজের পর পশ্চিম আকাশে সূর্য উদয় হলে ইশরাকের নামাজ পড়তে হয়।

প্রশ্নঃ ইশরাক নামাজ কয় রাকাআত?

উত্তরঃ এই নামাজ ২ রাকাআত করে চার রাকাআত পড়তে হয়।

প্রশ্নঃ ইশরাক নামাজ সুন্নত নাকি নফল?

উত্তরঃ ইশরাক নামাজ নফল

সমাপ্তি

বর্তমান সময়টাতে অনেক ফেতনা ফাসাদে ভরপুর! আপনি যেখানে যাবেন সেখানেই ফেতনা। এখনতো আমাদের ইসলাম নিয়েও অনেক ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলে নামাজ শেষে একসাথে মোনাজাত দেওয়া যাবে নাহ আবার কেউ বলে যাবে। আসলে যারা বলে একসাথে ফরজ নামাজের শেষে মোনাজাত দেওয়া যাবে না তার বর্তমান জামানার খারেজী।

যা নবীর যুগেও ছিলো সাহাবায়ে কেরামদের যগেও এবং তারা সবসময়ই ছিলো।আল্লাহ তায়ালা তাদের থেকে আমাদের হেফাজত করুক।

যাইহোক, যতো বেশি নফল নামাজ পড়বেন ফরজের পাশাপাশি ততো আপনার অন্তরে নূর পয়দা হবে, আপনার আর আল্লাহর যে একটা দূরত্ব ছিলো সেটা কমতে থাকবে। ধীরে ধীরে আল্লাহ প্রিয় বান্দা এবং বন্ধুতে পরিনিত হবেন।তাই সবসময় ফরজ আদায় করে নফল ইবাদত বেশি বেশি করবেন।

দাঁড়ান,  নিজেতো নফল নামাজ ঠিকি পড়বেন, তাইতো জানতে আসছেন। নিজে পড়ার পর আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমিও সর্বদা আল্লাহর ফরজ বিধান এবং আমার প্রিয় নবীর সুন্নাত আদায় করার সাথে সাথে নফল নামাজ পড়তে পারি-আমিন।

সর্বদা পর্দার সাথে চলাফেরা করবেন। আর মানুষের সুখেদুঃখে পাশে দাঁড়াবেন। আল্লাহর আপনার সহায় হক।

আপনার জন্য আরো গুরত্ব পূর্ণ তথ্যঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published.