অযুর নিয়ম,নিয়ত ও দোয়া। ojur dua bangla

অযুর নিয়ম অযুর নিয়ত দোয়া অযুর ফরয অযুর সুন্নত অযুর মাকরূহ অযু ভঙ্গের কারণ 

১। অযুর প্রথমে


(আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রজীম)

অর্থ : আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট বিতাড়িত শয়তান হইতে আশ্রয় চাহিতেছি। এবং


(বিছমিল্লাহির্ রাহমানির রাহীম)

অর্থ: “আমি আল্লাহ্ তায়ালার নামে আরম্ভ করিতেছি, যিনি পরম করুণাময়, মহান দয়ালু।” পড়িয়া অযু আরম্ভ করিবে। তারপর অঙ্গুলী খেলাল সহ তিনবার হাত ধোয়ার সময় অযুর নিয়ত করিবেনীচের দোয়া পড়িবে




যা যা জানতে পারবেন , প্রতিটায় ক্লিক করে যেতে পারবেন

অযুর নিয়ত

অযুর নিয়ত

نويت ان اتوضاء رفعا للحدث واستباحة للصلوة


وتقربا إلى الله تعالى

বাঃ উঃ নাওয়াইতু আন্ আতাওয়াজ্জাআ রাফ্‌আল্ লিল্ হাদাসে ওয়াস্তেবাহাতাল্ লিচ্ছালাতে ওয়া তাকাররুবান ইলাল্লাহে তায়ালা।


অর্থ: আমি অপবিত্রতা দূরীকরণ ও নামাজ বৈধকরণ এবং আল্লাহ্ তায়ালার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে অযুর নিয়ত করিলাম।


অযুর দোয়া

অযুর দোয়া

বাঃ উঃ— বিছমিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীমে, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহে আলা দীনি ইলামে, আল্ ইলামু হাকুন ওয়াল কুফ্ফ বাতেলুন। আল্ ইছলাম নূরুন ওয়াল্ কুফরু যুলমাতুন।

অর্থ : আল্লাহ্ তায়ালার নামে আরম্ভ করিতেছি যিনি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন মহান এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তায়ালার জন্য দ্বীন ইসলাম প্রদান করার কারণে, দ্বীন ইসলাম সত্য এবং কুফর বাতেল, দ্বীন ইসলাম আলো এবং কুফর অন্ধকার।

তারপর প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার সময় { বিছমিল্লাহির্ রহমানির রহীম } পড়িবে।


২। হাত ধোয়ার পর মুখভর্তি পানি লইয়া তিনবার কুলি ও গড়গড়া করিবে। কিন্তু রোযা থাকা অবস্থায় গড়গড়া করিতে পারিবে না। ৩। তারপর তিনবার ডান হাতে নাকে পানি দিয়া বাম হাতের শাহাদত ও বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা নাকের ঠোলে পানি ঢুকাইবে।


৪। নাক ধোয়ার পর সমস্ত মুখমণ্ডল উভয় হাতে পানি লইয়া তিনবার ধৌত করিবে। কপালের উপরিভাগের চুল উঠার জায়গা হইতে থুনীর নীচে পর্যন্ত এবং উভয় কানের লতি পর্য্যন্ত ধৌত করিবে। যাহাদের দাড়ি ঘন বা বেশী তাহারা দাড়ির গোড়ায় পানি প্রবেশ করাইতে না পারিলেও অযুর কোন ক্ষতি হইবে না। তবে যাহাদের দাড়ি পাতলা তাহাদের দাড়ির গোড়ায় পানি প্রবেশ করাইতে হইবে।


৫। তারপর উভয় হাত কনুইর উপর পর্যন্ত তিনবার ভালমতে ধৌত করিবে। ৬। তারপর নতুন পানি দ্বারা একবার হাত ধুইয়া মাথা মসেহ্ করিবে। মাথা মসেহ্ করিবার নিয়ম এই যে, উভয় হাতের কনিষ্ঠ, অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুল সমূহের মাথাগুলি পরস্পর একত্রিত করিয়া মাথার সম্মুখে স্থাপন করিবে, কিন্তু শাহাদত, বৃদ্ধাঙ্গুলী এবং হাতের তালু মাথা হইতে পৃথক রাখিবে।


তারপর মাথার উপরিভাগ হইতে অঙ্গুলী টানিয়া ঘাড় পর্যন্ত নিবে। তারপর হাতের তালু দ্বারা মাথার দুই পার্শ্ব মুছিতে মুছিতে সম্মুখের দিকে আনিবে। তারপর শাহাদত অঙ্গুলী কানের ভিতর প্রবেশ করাইয়া বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা কানের উপরিভাগ মসেহ করিবে। তারপর দুই হাতের আঙ্গুলের পিঠ দ্বারা ঘাড় মসেহ্ করিবে। উল্লিখিত নিয়মে মসেহ করিলে মসেহের ফরয, সুন্নত ও মোস্তাহাব আদায় হইবে।


৭। উভয় পায়ের গিরার উপর পর্যন্ত ভালমতে তিনবার ধৌত করিবে। পা ধৌত করার সময় ডান হাতে পানি দিয়া বাম হাতে আঙ্গুল খেলাল করিয়া পা ভালমতে পরিষ্কার করিয়া ধৌত করিবে।











অযু শেষ করিয়া একবার ইস্তিগফার পড়িবে


استغفر الله ربي من كل ذنب واتوب اليةہ

বাঃ উঃ— আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহা রাব্বী মিন্ কুল্লি যাম্‌বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহে। অর্থঃ আমি আমার প্রভু আল্লাহ্ তায়ালার নিকট সমস্ত গুনাহ্ (বড় গুনাহ ছোট গুনাহ্, জানিয়া করিয়াছি গুনাহ্; না জানিয়া করিয়াছি গুনাহ্) হইতে মাফ হিতেছি এবং (পাপ আর না করার দৃঢ় সংকল্প করিয়া অনুতপ্ত হৃদয়ে) তাঁহারই আল্লাহ্ তায়ালার) নিকট তওবা (প্রত্যাবর্ত্তন) করিতেছি।


তারপর নীচের দোয়াটি পড়িবেঃ


তারপর নীচের দোয়াটি পড়িবেঃ


اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له وا شهد ان سيدنا محمد عبده ورسوله. اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين •

বাঃ উঃ— আশ্হাদু আল্ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না ছাইয়্যেদানা মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাছুলুহু। আল্লাহুম্মাজ্ আল্‌নী মিনাত্তাউয়্যাবীনা ওয়াজ্‌ আলনী মিনাল মুতাত্বাহেরীন্।

অর্থঃ আমি সংশয়হীন খালেছ অন্তরে সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ (এবাদতের যোগ্য) নাই, তিনি একক, তাঁহার কোন অংশীদার নাই এবং আমি সংশয়হীন খালেছ অন্তরে আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, নিশ্চয় ছায়্যেদিনা হজরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম তাঁহার (আল্লাহর) বান্দা এবং তাহার রাছুল। হে আল্লাহ! আমাকে বেশী বেশী তওবাকারীদের মধ্যে গণ্য কর এবং বেশী বেশী পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে শামেল কর।

এই দোয়াটি পড়িলে তাহার সমস্ত গুনাহ্ মাফ হইবে ও বেহেশতে তাহার জন্য আটটি দরজা খোলা থাকিবে। সে যে কোন দরজা দিয়া বেহেশতে প্রবেশ করিতে পারিবে।



অযুর ফরয


অযুর মধ্যে চারটি ফরয; যথা ঃ–


(১) কপালের উপরিভাগের চুলের উৎপত্তির স্থান হইতে জানির নিচ পর্যন্ত, এক কানের লতি হইতে আরেক কানের লতি পর্যন্ত সমস্ত মুখমণ্ডল দোয়া। দাড়ি পাতলা হইলে দাড়ির গোড়ায় পানি প্রবেশ করানো ফরয কিন্ত পাতলা হলে দরকার নাই।

(২) উভয় হাতের কনুইর উপর পর্যন্ত ধোয়া।

(৩) মাথার চারিভাগের এক ভাগ ভিজা হাতে মসেহ করা। মাথা মসেহ করিবার নিয়ম এই যে, পানিতে হাত ডুবাইয়া উভয় হাতের কনিষ্ঠ, অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুলসমূহের মাথাগুলি পরস্পর একত্রিত করিয়া মাথার সম্মুখে স্থাপন করিবে কিন্তু শাহাদত, বৃদ্ধাঙ্গুলী এবং হাতের তালু মাথা হইতে পৃথক রাখিবে। তারপর মাথার উপরিভাগ হইতে অঙ্গুলী টানিয়া ঘাড় পর্যন্ত নিবে। তারপর হাতের তালু দ্বারা মাথার দুই পার্শ্ব মুছিতে মুছিতে সম্মুখের দিকে আনিবে। ভারপর শাহাদত অঙ্গুলী কানের ভিতরে প্রবেশ করাইয়া বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা কানের উপরিভাগ মসেহ্ করিবে। তারপর দুই হাতের আঙ্গুলের পিঠ দ্বারা ঘাড় মসেহ করিবে। উল্লিখিত নিয়মে মসেহ্ করিলে মসেহের ফরয, সুন্নত ও মোস্তাহাব আদায় হইবে।

(৪) উভয় পায়ের গিরার উপর পর্যন্ত ধোয়া।




পড়ুন তাহাজ্জুত নামাজের নিয়ম>>>>





অযুর সুন্নত

  1. অযুর নিয়ত করা।
  2. বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলিয়া অযু আরম্ভ করা।
  3. অযুর পূর্বে মিস্ওয়াক করা।
  4. প্রথমে দুই হাতের কব্জি তিনবার ধোয়া।
  5. গড়গড়া সহ তিনবার কুলি করা।
  6. ডান হাতে নাকে পানি দিয়া বাম হাতে ঝাড়িয়া ফেলা। (কিন্তু রোযাদার গড়গড়া করিবেনা ও নাকের কোমল অংশের উর্ধে পানি দিবে না।)
  7. অঙ্গুলী দ্বারা দাড়ি খেলাল করা। (অঙ্গুলী নীচের দিক হইতে উপরের দিকে টানিবে।)
  8. উভয় হাত ও পায়ের অঙ্গুলী খেলাল করা।
  9. অযুর প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার ধোয়া।
  10. এক অঙ্গ না শুকাইতে অন্য অঙ্গ ধোয়া।
  11. অযুর তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
  12. সমস্ত মাথা একবার মসেহ্ করা। বৃদ্ধাঙ্গুলীর পেট দ্বারা উভয় কান মসেহ্ করা।


অযুর মোস্তাহাব

১। ডান দিক হইতে অযু আরম্ভ করা।

২। ঘাড় মসেহ্ করা।

৩। উচ্চ স্থানে বসিয়া অযু করা।

৪। প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়া এবং মসেহ্ করিবার সময় “বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” বলা।

৫। হাতে আংটি থাকিলে উহার ভিতর পানি প্রবেশ করান।

৬। অযু করিবার সময় সাংসারিক কথাবার্তা না বলা।

৭। অযুর অবশিষ্ট কিছু পানি দাড়াইয়া পান করা।

৮।ডান হাতে পানি দ্বারা কুলি করা।

৯। কানের ছিদ্রে নিষ্ঠাঙ্গুলী প্রবেশ করান।

১০। ইবাদত করার পর অযু থাকা সত্ত্বেও নতুন অযু করিয়া নামাজ পড়া।

১১। পানি বেশী খরচ না করা এবং কমও খরচ না করা।





আরো পড়ুন শবে কদরের নামাজের নিয়ম নিয়ত আমল>>>>>>





অযুর মাকরূহ

১। মুখে জোরে পানি নিক্ষেপ করা।

২। বিনা ওযরে বাম হাতে পানি দেওয়া।

৩। সাংসারিক কথাবার্তা বলা।

৪। তিনবারের অতিরিক্ত কোন অঙ্গ ধোয়া বা কম ধোয়া।

৫। বিনা ওযরে অপরের সাহায্যে অযু করা।

৬। খুব কম পানি খরচ করা।

৭। অতিরিক্ত পানি খরচ করা।

৮। বাম হাতে পানি দ্বারা কুলি করা এবং ডান হাতে নাক পরিস্কার করা।




জানুন যেভাবে লিপস্টিক তৈরি করে এবং খেয়ে ফেললে কোনো ক্ষতি হবে কিনা>>>>>?



অযু ভঙ্গের কারণ

১। মল-মূত্রের রাস্তা দিয়া বায়ু বা অন্য কোন কিছু বাহির হইলে।

২। শরীরের ক্ষতস্থান হইতে রক্ত কিম্বা পুঁজ বাহির হইয়া গড়াইয়া পড়িলে; গড়াইয়া না পড়িলে অযু ভঙ্গ হয় না। ৩। রক্ত বা আহাৰ্য্য দ্রব্য কিম্বা পীৎ পানি মুখ ভরিয়া বমি হইলে; মুখ ভরিয়া এই সমস্ত দ্রব্য বাহির না হইলে অযু যাইবে না।

৪। থুথুর সহিত রক্তের ভাগ বেশী বাহির হইলে। থুথুর চেয়ে রক্ত কম হইলে অযু যাইবে না। থুথু ও রক্তের ভাগ সমান হইলে অযু করা উত্তম।

৫। চিৎ বা কাত হইয়া বালিশে ঠেস দিয়া নিদ্রা গেলে; নামাজের ভিতর নিদ্রা গেলে অযু ভঙ্গ হয় না।

৬। রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট নামাজে বালেগ ব্যক্তি উচ্চস্বরে হাসিলে অযু ভঙ্গ হইবে।


নজরুল সঙ্গীত (nozrul songit)

Leave a Comment

Your email address will not be published.