শবে মেরাজ কবে? সঠিক তারিখ কোনটি?

মি’রাজের সময়ের বিষয়ে সঠিক আক্বিদা:



 শবে মেরাজ নিয়ে যতো সন্দেহ ছিল, নসীব ভালো হলে আপনার মন থেকে সকল সন্দেহ দূর হবে ইংশাআল্লাহ

মি’রাজের সময়ের বিষয়ে সঠিক আক্বিদা

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক কিছু নিয়ে অনেক ধরনের মতবাদ পাওয়া যায়। আপনি আমি আম জনতা কোনটা মানবো।
সবাইতো কুরআন হাদিস মানে, সবাইতো পড়েই বলে;তাহলে এতো সমস্যা কেনো?
দেখতে হবে ঐ বিষয়টা কোন হুজুর যুক্তিসম্মত কথা এবং কিছু প্রমানসাপেক্ষে দলিল দিচ্ছে।
মনে রাখা ভালো, একমাত্র ফরজ এবং ওয়াজিবের জন্য সহীহ্ হাদিস প্রয়োজন হয় অন্যথায় সহীহ হাদিস দরকার হয় নাহ। যেমন নফল মুস্তাহাব এবং ক্ষেত্র বিশেষে সুন্নতও।






রাসূল (ﷺ)‘র মি’রাজ হলো ২৭ই রজব বা ২৬ই রজব দিবাগত রাত। এ মতটিই সুপ্রসিদ্ধ ও অধিক গ্রহণযোগ্য। আল্লামা বদরুদ্দীন মাহমুদ আইনী (رحمة الله) বলেন-


كَانَ الْإِسْرَاء لَيْلَة السَّابِع وَالْعِشْرين من رَجَب

-‘‘রাসূল (ﷺ)‘র ইসরা ভ্রমণ বা মি’রাজ ২৭ই রজব হয়েছিল।’’  (আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ৪/৩৯ পৃষ্ঠা, দারু ইহইয়াউত্-তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন।)



শবে মেরাজের আমল




বিশ্বের মুসলিম সমাজের সর্বত্র এ মতই সমধিক সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও আহলে হাদিসদের ইমাম এবং সকলের মান্যবড় আল্লামা ইবনে কাসির (رحمة الله) তার একাধিক বিখ্যাত গ্রন্থে উল্লেখ করেন-

أَنَّ الْإِسْرَاءَ كَانَ لَيْلَةَ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

-‘‘অবশ্যই মি‘রাজ সংগঠিত হয়েছে রজব মাসের ২৭ তারিখ। মহান রব আল্লাহ তা‘য়ালাই ভাল জানেন।’’

(ইবনে কাসির, আল-বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৩৫ পৃষ্ঠা, দারু ইহইয়াউত্-তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন, সিরাতে নববিয়্যাহ, ২/৯৩ পৃষ্ঠা)

ইমাম কাস্তাল্লানী (رحمة الله) উল্লেখ করেন-

كان ليلة السابع والعشرين من رجب

-‘‘মি’রাজ ২৭ই রজব হয়েছিল।’’




পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে শবে বরাতের দলিল





➤কাস্তাল্লানী, মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া, ১/১৬২ পৃষ্ঠা, দারু ইহইয়াউত্-তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন।

ইমাম জুরকানী (رحمة الله) অনুরূপ মতামত পেশ করেছেন।  ➤ জুরকানী, শরহুল মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া, ২/৭১ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।

তিনি আরও বলেন-  قال بعضهم: وهو الأقوى -‘‘অনেক উলামাগণ বলেছেন যে, এটিই শক্তিশালী অভিমত।’’

➤ জুরকানী, শরহুল মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া, ২/৭১ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।



শবে বরাত প্রমাণ সম্পর্কে হাদিস শরীফ



❏ ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) সংকলন করেন- أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ -‘‘হযরত সালমান ফারসী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে রযব মাসে এমন একটি মহান দিন ও মহান রাত রয়েছে যে ব্যক্তি ঐ দিনে রোযা রাখবে এবং ঐ রাতে জাগরান করে ইবাদত করবে, তার সাওয়াবের পরিমান হবে ঐ ব্যক্তির মত যে একশ বছর দিনে নফল রোযা রেখেছে এবং রাত্রে নফল ইবাদত করেছে। ঐ মহান দিন ও রাত্রটি হলো রযব মাস শেষ হওয়ার ৩ দিন বাকী থাকতে অর্থাৎ- ২৭ শে রযব (শব-ই-মিরাজ)।’’ (ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ৫/৩৪৫ পৃ. হা/৩৫৩০ এবং ফাযায়েলুল আওকাত, ৯৫ পৃ., হা/১১, মুত্তাকী হিন্দী, কানযুল উম্মাল, ১২/৩১২ পৃ. হা/৩৫১৬৯, আল্লামা তাহের পাটনী, তাযকিরাতুল মাওদ্বুআত, ১১৬ পৃ., ইমাম দায়লামী, আল-ফিরদাউস, ৩/১৪২ পৃ. হা/৪৩৮১)



  1. শবে মেরাজের আমল সমূহ
  2. শবে মেরাজের নামাজের নিয়ম এবং শবে মেরাজের ফজিলত
  3. তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত এবং তাহাজ্জুত নামাজের নিয়ম
  4. শবে কদরের নামাজের নিয়ম ও নিয়ত। আমল
  5. শবে কদরের ফজিলত ও আমল
  6. শা’বান মাসের ফজিলত,বরকত ও নামাজের নিয়ত। আমল










Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *